বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ , ০১:৫২ পিএম
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলমগীর হাওলাদার নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের অন্তত ৫০টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে সদর মডেল থানা হত্যা মামলা করেন। এতে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু হাওলাদারকে প্রধান করে ৮৬জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় তিনি নিহত আলমগীরের বাড়িতে যান এবং ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ বিচারের আশ্বাস দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাতটার দিকে নতুন মাদারীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আলমগীর হাওলাদারকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করে তার প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তার ডান হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। হামলাকারীরা তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
নিহত আলমগীর হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার মৃত হাফেজ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুনশি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারসহ তার সমর্থিত অন্তত ৫০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে বিক্ষুব্ধরা। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে যৌথবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। এদিকে আলমগীর হত্যার পরে নতুন মাদারীপুর এলাকাটি প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতেও দেখা গেছে।
আরটিভি/এমএইচজে