বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ , ০৫:৩২ পিএম
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী শিশু রোগীকে সঠিক ওষুধ না দিয়ে ভুল ওষুধ দেওয়ায় ঘটনা ঘটেছে। পরে শিশুর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি ফার্মেসির মালিককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ এই জরিমানা করেন। অভিযান পরিচালনার সময় র্যাব-৯ এর একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল।
জরিমানার ২৫ ভাগ টাকা অভিযোগকারী শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আম্মারকে তাৎক্ষণিক প্রদান করা হয়েছে। জানা যায়, তিন দিন আগে গত ৯ মার্চ সোমবার সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আম্মারের ৩ বছর বয়সী মেয়ে হাজেরা তারান্নুম পাতলা পায়খানাসহ সর্দি-জ্বরে অসুস্থ হলে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৈকত দাসকে দেখান।
ডা. সৈকত দাস ওই শিশুর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু সিটি ফার্মেসি থেকে ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ না দিয়ে ভুল করে দিয়ে দেওয়া হয় পটাশিয়ামের সিরাপ। ওই ভুল ওষুধ সোমবার বিকেলে ও রাতে সেবন করানো হলে শিশুর অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পায়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শিশুর বাবা চিকিৎসককে অসুখ না সেরে বাড়ার কারণ জানতে চান ও ওষুধগুলো দেখান।
আর তখনই ধরা পরে ফার্মেসি থেকে ভুল ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি। ভুল ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে ফার্মেসি গেলে কোন সদুত্তর পাননি তারান্নুমের বাবা মো. আম্মার। এরপর তিনি ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আজ বুধবার অভিযোগ যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর ফার্মেসি মালিক ফরিদ আহমদকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং অভিযোগকারী মো. আম্মারকে জরিমানার ২০ হাজার টাকা দেন।
অভিযোগকারী মো. আম্মার বলেন, চিকিৎসক বলেছেন, ওই ভুল ওষুধ আর কিছু খাওয়ানো হলে বড় বিপদ ঘটতে পারত। ওষুধ নিয়ে ফার্মেসি যাওয়ার পর তারা সন্তোষজনক জবাব দেননি। আমার মেয়ে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় আমি ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করি। জরিমানার টাকা নিতে আমি রাজী ছিলাম না, কিন্তু আইন অনুযায়ী নিতে হয়েছে। তবে এই টাকা আমি ঘরে নেইনি, ২০টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী কিনে দিয়েছি।
এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গতকাল শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকার খাদ্য পণ্য উৎপাদন ও বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান বনফুলকে ৫ হাজার টাকা, শহরের কাজির পয়েন্ট এলাকায় কৃত্রিম উপায়ে কলা পাকানোর অভিযোগে পাইকারি কলা ব্যবসায়ী অশোক বিশ্বাস ৩০ হাজার টাকা, হাছননগর এলাকায় সিম্পল শো রুমে অভিযান চালিয়ে মূল্য বাড়িয়ে ডিসকাউন্টে কাপড় বিক্রি করে ভোক্তাকে ঠকানোর অভিযোগে ২ হাজার টাকা ও শহরতলীর রাধানগর পয়েন্ট এলাকার মেসার্স তাওসিফ গ্যাস হাউসে মূল্য তালিকা না থাকায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একজন ভোক্তার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ না দিয়ে ভুল ওষুধ দেওয়া হলে সেই ওষুধ খেয়ে ভোক্তার রোগী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি ফার্মেসিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী জরিমানার ২৫ ভাগ ২০ হাজার টাকা ভোক্তাকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আরটিভি/এমআই