বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ , ০৭:০৮ পিএম
রাঙামাটি শহরে ফিলিং স্টেশনে ডিজেল কিনতে গিয়ে দুই ক্রেতার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে শহরের রাজবাড়ী এলাকায় মেসার্স এম এম পেট্রোলিয়াম এজেন্সি নামের ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচ থেকে ছয়জন ক্রেতার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। তাঁরা সবাই বোতল হাতে ডিজেল নিতে ফিলিং স্টেশনে এসেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা মারামারিতেও জড়ান। একজন আরেকজনকে কিলঘুষি দেন। এ নিয়ে অন্য ক্রেতাদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, গত সোম ও মঙ্গলবারও ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি ছিল না। এ কারণে বিক্রিও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে বুধবার এতে জ্বালানি আসে। এরপর বিক্রি শুরু হয়। খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে গ্রাহকেরা ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেছিলেন।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী হাসিবুল ইসলাম জানান, তিনি গতকাল বিকেলে রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে অকটেন নিতে যান। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তিনি ডিজেল কিনতে আসা কয়েকজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে দেখতে পান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি হয়। লাইনে দাঁড়ানো নিয়েই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন চাকমা বলেন, দুদিন পর গতকাল ফিলিং স্টেশনে সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন ও চার হাজার লিটার ডিজেল এসেছে। এ খবরে গ্রাহকেরা ভিড় করেছিলেন। হঠাৎ ডিজেল কিনতে আসা কয়েকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বিক্রি হয়। বর্তমানে এতে অকটেন ও ডিজেল নেই।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসিম বলেন, লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙামাটি শহরের চারটি স্টেশনের কোনোটিতেই তেল বিক্রি হচ্ছে না। জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন শহরের মোটরসাইকেল ও নৌযানের চালকেরা।
শহরের বনরূপা হিলভিউ ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, গতকাল চার হাজার লিটার অকটেন ও চার হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ পাওয়া গেছে। সেসব তেল গতকালই বিক্রি হয়ে গেছে। আজ তেলের জন্য চট্টগ্রামে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আপাতত ৮ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। সেই তেল এখনো এসে পৌঁছায়নি। তাই বিক্রি বন্ধ আছে।
তিনি বলেন, ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে ৫০০ থেকে ১ হাজার লিটার অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হতো। কিন্তু এখন তিন-চার হাজার লিটার আনলেও তা কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনছেন বা কেউ মজুত করছে। না হয় এত চাহিদা বাড়ার কথা নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে রাঙামাটিতে জ্বালানিসংকট নেই বলে দাবি করেছে প্রশাসন। এ বিষয়ে রাঙামাটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ব্যবহারের মতো জ্বালানি তেল আছে। কোনো সংকট নেই। তবে চাহিদা অনুযায়ী পদ্মা ও যমুনা থেকে অনেকে তেল পাচ্ছে না।
আরটিভি/এমআই