images

দেশজুড়ে

ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ শৈলকুপার পেঁয়াজ চাষিরা

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৫:৫২ পিএম

পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজের বাজারদর কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মুড়িকাটা পেঁয়াজের সঙ্গে আগাম নতুন পেঁয়াজ বাজারে ওঠায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম কমে গেছে, ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। যদিও দাম কমায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। 

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলায় ১২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১২ হাজার ৩১ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর ৮০৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে।

আরও পড়ুন
Annie_001426

অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

‎সরেজমিন বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাজারে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ প্রতি মণ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং দেশী পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কেউ কেউ বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সম্ভাবনার গুজবে দাম কমেছে। আবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন আগাম পেঁয়াজ বাজারে ওঠায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। বাজারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ মুড়িকাটা পেঁয়াজের সঙ্গে নতুন আগাম পেঁয়াজও দেখা যাচ্ছে। দাম কম থাকায় ক্রেতারা খুশি মনে পেঁয়াজ কিনছেন, তবে এতে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।

‎পৌর বাজারের আড়তদার মুক্তার মুন্সী জানান, বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সঙ্গে নতুন পেঁয়াজের আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। ফলে ক্রেতারা বেশি করে পেঁয়াজ কিনছেন। তবে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ ওঠা শুরু হলে দাম আরও কমতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

‎পাইকারি পেয়াজ ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, মুড়িকাটা ও নতুন পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ থাকায় বাজারে দাম কমেছে। এতে কৃষকরা লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

‎খুচরা ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। খুচরা বাজারে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আমরা খুব সামান্য লাভে বিক্রি করছি। বাজার এমন থাকলে কৃষকরা চরম লোকসানে পড়বেন। 

‎পৌর বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা শিক্ষক আফরোজ আল মামুন বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় ইচ্ছেমতো কিনতে পারছি। তবে এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

‎উপজেলার খালফলিয়া গ্রামের কৃষক বিমল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় আমরা লোকসানে পড়েছি।

‎শৈলকুপা উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন সারের দাম বেশী, শ্রমিকের মুজুরী বেশী, বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে অনেক কৃষক তাদের সহায়-সম্বল হারাবেন।

‎শৈলকুপা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবুর খান বলেন, এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট সপ্তাহে দুদিন বাজার বসে। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীগন এসে নিরিবিলি পেঁয়াজ কিনে। আমরা চেষ্টা করি বাজারের পরিবেশ ঠিক রাখতে। 

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান খান জানান, চলতি বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনে বাজারদর কিছুটা বাড়তে পারে। না হলে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।

আরটিভি/এমআই