images

দেশজুড়ে

বোনকে দেহব্যবসায় বাধ্য করাতে কর্মীকে মারধরের পর চুল কেটে দিলেন বিউটি পার্লারের মালিক

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৫০ পিএম

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের 'রাইসা বিউটি ঘর' নামে একটি বিউটি পার্লারের কর্মীকে মারধরের পর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধে।

মানিকগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার এলজিইডির পশ্চিম পাশে অবস্থিত ওই বিউটি পার্লারের ব্যবসার আড়ালে পতিতালয় চালানো হচ্ছে বলে শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার পর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী তরুণী। পরে যাচাই-বাছাই শেষে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে অভিযোগটি মামলায় রুপান্তর করা হয়। 

অভিযুক্তরা হলেন- ওই বিউটি পার্লারের মালিক- মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান (২৬), দেড় গ্রাম এলাকার তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৩), পশ্চিম সেওতা এলাকার রিফাত (২৫) ও রজ্জব (২৫), বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপুসহ (৪৫) আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী তরুণী উল্লেখ করেন, রত্না ইয়াছমিন বিউটি পার্লারের ব্যবসার আড়ালে উল্লেখিত আসামিসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন আসামিদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে পতিতালয় চালাচ্ছিলেন। আমি উল্লেখিত বিউটি পার্লারে চাকরি করতাম। এই সুযোগে রত্না ইয়াছমীন তার সহযোগী অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় আমাকে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে। গত ১১ মার্চ আমার ছোট বোন (১৩) আমার উত্তর সেওতা এলাকার ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। আমার বোনের বেড়াতে আসার বিষয়টি আসামিরা জানতে পেরে আমার বোনকে দেহ ব্যবসায় আনার জন্য আমার কাছে প্রস্তাব দেয়। এতে আমি রাজি না হওয়ায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত একটার দিকে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বাসায় গিয়ে আমাকে ও আমার বোনকে বিউটি পার্লারে দেহব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় ডাম্পট্রাকের চাপায় যুবক নিহত, মীমাংসার চাপ

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এতে আমি রাজি না হলে তারা আমাকে মারপিট করা শুরু করে। এ সময় আমার বোন ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে আসামিরা আমাকে রত্না ইয়াসমিনের পার্লারে নিয়ে আটকে রাখে। পরে আসামিরা আমাকে আবারও দেহব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়। আমি আগের মতো আসামিদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে আসামিরা আমাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট করে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আমি বাঁচার চেষ্টা করলে আসামিরা আমাকে লোহার শিকল দিয়ে তালা মারে, ওড়না দিয়ে আমার হাত বেঁধে আমার তলপেটে লাথি মেরে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদনাদায়ক জখম করে। একপর্যায়ে আসামিরা পার্লারে ব্যবহৃত কাচি দিয়ে আমার মাথার চুল কেটে ও আমার মুখমণ্ডলে কালো কালি লাগিয়ে আমার মুখমণ্ডলসহ মাথার সৌন্দর্য নষ্ট করে। পরে আমার বন্ধু সাথী ও সাবিনা বিষয়টি জানতে পেরে মানিকগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় আমাকে উদ্ধার করে। এ সময় থানা পুলিশ রত্না ইয়াছমীনসহ তিনজন আসামিকে হেফাজতে নেয় এবং অন্যান্য আসামিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। আমাকে উদ্ধার পরবর্তীতে থানা পুলিশ আমাকে মানিকগঞ্জ ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে