images

দেশজুড়ে

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত

রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬ , ০৫:৩৪ পিএম

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) হিমঘর সূত্রে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, যশোর জেলার পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), চাঁদপুর জেলার চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের পুত্র তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদাহ জেলার মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির বাবুল চৌধুরী (৫৫), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজুল ইসলামের কন্যা সাঈদা (৯)।

কুমেক কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে আনার আগেই এসব নিহতের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত ২৪ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মধ্যে ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন, তাকবির (২৮), ওমর ফারুক (৬৫), মাহফুজ (২৮), রাকিব (২০), ইকবাল হোসেন (৫৮) এবং সহিদুল ইসলাম (৫০)।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, অধিকাংশ আহতকে স্বজনরা নিজ দায়িত্বে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে স্থানীয়রা আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এই সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি নিহতরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন
Web-Image

ট্রেন-বাস দুর্ঘটনা: নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা

খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।

এদিকে, ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আরটিভি/এসকে