সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ০৬:০৩ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমুর গ্রুপে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে দুই চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের লোকজনের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
রোববার (২২ মার্চ) রাতে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় একটি মিনি মার্কেট ভাঙচুর, দুই দোকানে লুটপাট এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংঘর্ষস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে
আটক সাতজনকে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর গ্রামের আঙ্গুর মিয়া ও মনির মিয়া সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। মনির মিয়া বর্তমানে পাথারিয়া বাজারের পাশে বসবাস করছেন। সম্প্রতি আঙ্গুর মিয়ার ভাগনে জাবেদ ও মনির মিয়ার ছেলে সায়েমের নামে একটি ইমু গ্রুপ খোলা হয়। সেখানে রোববার দুপুরে জাবেদের নামে গ্রামের কয়েকজন মুরব্বীকে নিয়ে বাজেভাবে লেখালেখি করা হয়। ওই খেলার একটি স্ক্রিনশট নিয়ে আঙ্গুর মিয়া ও মনির মিয়ার পরিবারের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে জাবেদ দাবি করেছেন, তিনি এই গ্রুপ সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তার নাম দিয়ে ভুয়া আইডি ব্যবহার করা হয়েছে।
পরে গ্রামের লোকজন বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তির জন্য রোববার রাত ৯টার দিকে উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। কিন্তু বৈঠক চলাকালীন সময়েই উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাজারের কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উভয় পক্ষের লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতেও সংঘর্ষে লিপ্ত থাকে। এরপর শান্তিগঞ্জ সেনাক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
আঙ্গুর মিয়ার পক্ষের জিয়াউর রহমান বলেন, কে কার উদ্দেশ্যে কী লিখেছে এটা আমরা জানি না। অনেকে বলেছেন এটি অপরিচিত আইডি দিয়ে করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সালিস বৈঠক ডাকা হয়। সালিস বৈঠকে বসে মনির মিয়ার লোকজন আঙ্গুর মিয়ার মার্কেটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় রেহান স্টোরের ক্যাশে রাখা আড়াই লাখ টাকা ও মালামাল লুট,
বারাকাত রেস্টুরেন্ট এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এলোপাতাড়ি হামলায় আমাদের পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
মনির মিয়া বলেন, পাথারিয়া গ্রামের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া হয়। পরে আঙ্গুর মিয়ার পক্ষের রেজু, নুরু মিয়া, রফিক, আছকির, রইছ আলী, আক্তার ও জাবেদ রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি আক্রমণ শুরু করে। তাদের রামদার আঘাতে আমাদের পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলি উল্লাহ বলেন, দুই চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের লোকজনের দ্বন্দ্বের জেরে পাথারিয়া বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে