images

দেশজুড়ে

শরীয়তপুরে পাম্পে তেল নেই, বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ , ০৫:৪৮ পিএম

শরীয়তপুরে সবকটি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় দুই দিন ধরে বিক্রি বন্ধ হয়ে আছে। ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে লম্বা লাইন থাকলেও তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে তেল।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) জেলা শহরের ছয়টি ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রী ও গণপরিবহনের চালকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর এলাকার সাহাবুদ্দিন দেওয়ান। তিনি শুক্রবার সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে ফেরার জন্য বের হয়েছেন। তবে তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে কোথাও জ্বালানি তেল পাননি। দুপুরে শহরের গ্লোরি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন
Bbaria-027

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু

সাহাবুদ্দিন জানান, দুই দিন ধরে চেষ্টা করেও কোনো পাম্পে তেল পাচ্ছি না। বেসরকারি কোম্পানির কাজ। ঠিকঠাক মতো অফিসে যোগ না দিলে চাকরিটাই চলে যেতে পারে। যেকোনো উপায়ে আজকে ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। মোটরসাইকেলে তেল না ভরতে পারলে যাবো কীভাবে?

কুতুব উদ্দিন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী অভিযোগ করেন, নড়িয়া বাজারে ২৪০ টাকা করে তেল বিক্রি হচ্ছে, সখিপুর থানার হাট বাজারে ৩০০ টাকা করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, কার্তিকপুর বাজারে ৩০০ টাকা করে তেল বিক্রি হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনে তেল নেই, অথচ খোলা বাজারে কীভাবে তেল বিক্রি হচ্ছে?

ফিলিং স্টেশনের মালিক-শ্রমিকরা জানায়, শরীয়তপুর জেলায় ছয়টি ফিলিং স্টেশন আছে। সেগুলোতে প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা আছে। 

বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ডিপো থেকে স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ কারণে গতকাল থেকে জেলার সব কটি স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকেরা জানান, শরীয়তপুর জেলা থেকে ঢাকায় তিন শতাধিক বাস চলাচল করে। বাসগুলো শরীয়তপুরের বিভিন্ন পাম্প থেকে ডিজেল নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। গত দুই দিন ডিজেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসগুলো চলাচল করতে বিড়ম্বনায় পড়েছে।

ঢাকা-নড়িয়া পথের বাসচালক ইয়াকুব বেপারি বলেন, নড়িয়া থেকে ঢাকায় যেতে-আসতে আমার গাড়িতে ৪৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। আগে পাম্পগুলো ২০ লিটার করে তেল দিত। তা দিয়েই দুই-একটি ট্রিপ দিতে পারতাম। গতকাল থেকে সবগুলো পাম্প তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এখন বাস বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার এলাকার হাজী আবদুল জলিল পেট্রোল পাম্পের পরিচালক খালেদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের পাম্পের চাহিদার ৩০-৪০ শতাংশ তেল সরবরাহ দিচ্ছে ডিপো। 

দুই দিন ধরে ডিপো থেকে তেল দিচ্ছে না। আমার পাম্পের জন্য তেল আনার গাড়ি দুই দিন ধরে ডিপোতে অপেক্ষা করছে, তেল পাওয়া গেলে তা দিয়ে পাম্প চালু করা হবে।

শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, ঢাকা থেকে শরীয়তপুর আসার পথে পদ্মা সেতুর পর থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে কোনো পেট্রোল পাম্প চালু নেই। 

শরীয়তপুরের যে পাম্পগুলো আছে, তা থেকে তেল নিয়ে এ জেলার পরিবহনগুলো চলাচল করছে। তেল–সংকটে আমাদের বাসগুলো চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিকেলের দিকে পাম্পে তেল আসবে, এমন নিশ্চয়তা পেয়েছি। তখন হয়তো সমস্যা কিছুটা কেটে যাবে।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং ফিলিং স্টেশনের মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জনসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে তেল পেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরটিভি/এমআই