শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ , ০৬:০৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রংপুরের মিঠাপুকুরে ওই ঘটনার সময় হাতেনাতে দুই প্রতারককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তাদের দুজনকে ডাবরাপাড়া গ্রামে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মনোরঞ্জন এবং শরিফুল ইসলাম। তারা মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে আটককৃত ব্যক্তিরা দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে নিজেদের সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তারা দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বল্পমূল্যে পণ্য পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কার্ড প্রতি নির্দিষ্ট অংকের টাকা দাবি করেন।
ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে ডাবরাপাড়া গ্রামে গিয়ে টাকা সংগ্রহ শুরু করলে তাদের আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। গ্রামবাসী তাদের পরিচয়পত্র এবং কার্ড দেওয়ার বৈধতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তারা অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘেরাও করে আটক করে।
ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, ওরা এসে বলেছিল, ৫০০ টাকা দিলেই ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে। আমরা সরল বিশ্বাসে টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওদের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমরা পাড়ার সবাইকে ডেকে ধরি।
আরেক ভুক্তভোগী আজমল হোসেন বলেন, আমার কাছে এসে তারা সরকারের প্রতিনিধি দাবি করেন। তারা আমার কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ১০০০ টাকা দাবি করেন। কার্ডের ফরমও দেখিয়েছিলেন, কিন্তু ফরমে কোনো সরকারি সিল বা স্বাক্ষর না থাকায় আমার সন্দেহ হয়। এরপর গ্রামের অন্যদের জানালে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের কিছুক্ষণ আটকে রাখে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। মিঠাপুকুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে দুই প্রতারককে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। এলাকাবাসীর অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/এমআই