রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ , ০১:১৯ পিএম
লিবিয়া থেকে রাবার নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ১১ জন যুবক রয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর এই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার সূত্রে নিহতদের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৩)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম।জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম, পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান, ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী। মারা যাওয়ার পর তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ সন্ধ্যায় লিবিয়ার তোবরুক অঞ্চল থেকে মোট ৪৮ জন যাত্রী রাবার নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ছয় দিন ধরে সাগরে ভেসে ছিল। এই সময় যাত্রীরা তীব্র খাবার ও পানির সংকটে পড়েন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২২ জনের মৃত্যু হয় দুর্ভিক্ষ ও অসহায় অবস্থার কারণে। আরও শোকের বিষয় হলো, পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদের মরদেহ সাগরে ফেলা হয়।
গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ইয়েরাপেত্রা উপকূল থেকে প্রায় ৫২ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে একটি বিপদগ্রস্ত নৌকার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে একটি ফ্রন্টেক্স জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছেন। তাদের প্রথমে কালা লিমেনা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে হেরাকলিয়ন বন্দরে স্থানান্তর করা হয়। অসুস্থ দুইজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহতরা জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে উন্নত জীবনের আশায় প্রবাসে যাচ্ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে, অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন। তাদের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ জানিয়েছেন, জগন্নাথপুরের ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, নিহতরা বৈধ পথে বিদেশে যাননি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এসকে