শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:৩২ পিএম
প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে মাসে সরকারের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এই সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (কমার্শিয়াল) মো. শাহীনুর ইসলামের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি স্টেশন কেন্দ্রিক এক বিশাল দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, যার ফলে প্রতি বছর সরকারের কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্টেশনের সংরক্ষিত টিকিট নিয়ন্ত্রণ করে একটি চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন শতাধিক টিকিট অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়লেও সিন্ডিকেট সদস্যরা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
স্টেশনজুড়ে অনিয়ম যেন নিত্যদিনের চিত্র। প্রবেশপথে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিনা টিকিটের যাত্রীদের অবাধ যাতায়াত চলছে। প্লাটফর্মে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিনা টিকিটের যাত্রীদের ধরা হলেও পরে টিকিট চেকারদের কক্ষে নিয়ে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। ট্রেনের ওয়াশরুমে নেই ন্যূনতম সুবিধা, নেই টিস্যু বা সাবান। সেবার জন্য বরাদ্দ অর্থও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি টিআইসি শাহীনের অফিসে কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় যাত্রীরা অভিযোগ জানানোর সুযোগও পান না। অধিকাংশ সময় অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, খাবার গাড়ি ও নামাজের বগিতেও অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয়। ফলে যাত্রীরা যেমন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশন কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও ট্রেনে উঠলেই দেখা যায় ভিড়। দায়িত্বরত কর্মীরা সরাসরি টাকা নিয়ে যাত্রী উঠায় এবং টিকিট কাটতে নিরুৎসাহিত করে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সিন্ডিকেট সদস্যরা লাভবান হচ্ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ স্টেশন সুপার আবদুল্লাহ আল হারুন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও সরাসরি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত টিআইসি শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার দায়িত্ব সম্পর্কে সরকারই অবগত এবং এসব বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না।
রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মহববতজান চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা থেকে কর্মকর্তাদের পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমআই