শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:০৩ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে তিন বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন এক স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী। এতে ট্রেনচাপায় মা ও ছেলে দুজনেরই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে আউটার সিগন্যাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার চিনাশুকানিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক হরে কৃষ্ণের স্ত্রী মিতি রানী দাস (৩৫) ও তার ছেলে রুদ্র দাস (৩)। সন্ধ্যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে মিতি রানীর সঙ্গে তার দেবর প্রাণ কৃষ্ণের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে অভিমানে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মিতি রানী।
পরে রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসের বিপশট এলাকায় রেললাইনের পাশে তাদের বসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সকালের দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় মিতি রানী তার সন্তানকে কোলে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মিতি রানীর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু রুদ্রকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, সকালে দেবরের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হওয়ার পর মিতি রানী রাগ করে বেরিয়ে যান। সন্ধ্যায় পুলিশ বাড়িতে আসার পর আমরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারি।
রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহারিন সাফফাত জেরিন জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেবরের সঙ্গে ঝগড়ার অভিমানেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকে নিহত মিতি রানীর স্বামী হরে কৃষ্ণের মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। সকালে ঘটনাটি ঘটলেও পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পিবিআই তাদের পরিচয় শনাক্ত করে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এমআই