images

দেশজুড়ে

খালকে রাস্তা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত, কর্মকর্তার দাবি কাজ হয়েছে

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৩৬ পিএম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চর আমখাওয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় (কাবিখা প্রকল্প) ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের দাবি খালকে রাস্তা দেখিয়ে তা পুনঃনির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় একটি চক্র। পরে কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা। 

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দাবি প্রকল্পের কাজ দেখে বিল দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে অন্য একটি প্রকল্পের কাজ করেও ঘুষ না দেওয়ায় বিল ছাড় দেয়া হয়নি। পরে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিল ছাড় দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে চর আমখাওয়া ইউনিয়নের পাটাধোয়া পাড়া ছাত্তার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নওয়ালীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য ৭.৪ মেট্রিক টন গম যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর। 

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা না বলেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনগড়া প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু যে রাস্তাটি পুনঃনির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সেটি মূলত একটি খাল। সেই খালকে রাস্তা দেখিয়ে আত্মসাত করা হয় প্রকল্পের অর্থ।  

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের সভাপতি ও পিআইও অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। ভুয়া প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

পাটাধোয়া পাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, কাবিখা প্রকল্পের তালিকায় যে রাস্তাটির কথা বলা হয়েছে সেটি আসলে রাস্তা নয়। এটি একটি ছোট খালের মতো। কিন্তু খালকে রাস্তা দেখিয়ে অর্থাৎ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, পিআইও অফিস যে খালটি রাস্তাটি দেখিয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন সেখানে কোন দিনই কাজ করা হয়নি। বরং ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়েছে। এই দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি।  
 
এছাড়াও এই ইউনিয়নের আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজে নিয়ে নয় ছয়ের ঘটনা ঘটেছে। নাম মাত্র কাজ করে লোপাট করা হয়েছে সরকারি অর্থ। 

আরেকটি প্রকল্পের কাজ করেও ঘুষ না দেওয়ায় বিল ছাড় না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্য সহকারী সোহেল রানার বিরুদ্ধে। 

ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মানিকজান বেগম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্য সহকারী সোহেল রানা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চায়। আমি অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমার প্রকল্পের বিল আটকে দেন। এ বিষয়ে গত ১০ মার্চ দেওয়ানগঞ্জ ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এর ১৯ দিন পর ২৯ মার্চ একটি প্রকল্পের বিল দেওয়া হয়।

ঘুষ দাবির বিষয়ে পিআইও অফিসের অভিযুক্ত কার্য সহকারী সোহেলা রানার সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

ভুয়া প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান বলেন, টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কাজগুলো পরিদর্শন করেছি। প্রকল্পগুলোর কাজ দেখে বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে। 

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। কোন প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরটিভি/এমএম