images

দেশজুড়ে

পানির সংকটে হালুয়াঘাটে ২ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৩৪ পিএম

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলাজুড়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ১৬৯ হেক্টর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। ফলে প্রায় ১২ হাজার টন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হালুয়াঘাটে মোট কৃষিজমির পরিমাণ ২৫ হাজার ১৯ হেক্টর। চলতি বোরো মৌসুমে ২২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হলেও সেচ সংকটে হালুয়াঘাট সদর, কৈচাপুর, জুগলী, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমি পতিত রয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত অনাবাদি জমির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৭৭টি গভীর নলকূপ থাকলেও বর্তমানে চালু আছে মাত্র ৩৬টি। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ৪১টি নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণত এসব নলকূপে মোটর বসানো হয় ৯০ ফুট গভীরে, কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর ১২০ থেকে ১৫০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় সেগুলো আর কার্যকর থাকে না।

প্রযুক্তিগতভাবে এই সমস্যাকে ‘ড্রাই রানিং’ বলা হয়। অর্থাৎ পাম্প পানির স্তরের ওপরে উঠে গেলে তা আর পানি তুলতে পারে না, ফলে পাইপের গভীরতা থাকা সত্ত্বেও সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

বরিশালে প্লাস্টিকের পট কেটে বানানো ‘হেডমাস্ক’ দিয়ে শিশুদের অক্সিজেন প্রদান

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হালুয়াঘাটের ভূপ্রকৃতি এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাটির নিচেই পাথরের স্তর থাকায় নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল। ফলে অনেক কৃষক চাইলেও বিকল্প সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন না।

এদিকে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে জলকপাট ও রাবারড্যাম নির্মাণ করা হলেও তা সঠিক পরিকল্পনায় না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থাপনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় দেশের ভেতরের অনেক জমি সেচের আওতায় আসেনি; বরং পাশবর্তী দেশের কৃষকরাই বেশি উপকৃত হচ্ছেন।

কৃষক রুকন উদ্দিন জানান, আমার এলাকায় বোরো মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদ করা যায় না। সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে জমিগুলো চাষের আওতায় আনা সম্ভব।

অন্যদিকে ডাকিয়াপাড়ার কৃষক আতাউর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নদীর পাড় ভেঙে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়। এতে জীবন-জীবিকা চরমভাবে ব্যাহত হয়।

বিএডিসির ময়মনসিংহ সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী ওয়াসিম আকরাম জানান, পানির স্তর হ্রাস পাওয়ায় ২০০০ সালের পর থেকে অন্তত ১২টি গভীর নলকূপ বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন নলকূপ স্থাপনে পূর্বের নীতিনির্ধারণী সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যার সমাধান করা যায়নি। তবে এখন নদীর পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী নদীগুলো পুনঃখনন করে পানি সংরক্ষণ এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা গেলে অনাবাদি জমি পুনরায় চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরটিভি/এমএম