images

দেশজুড়ে

পরিত্যক্ত ঘরে ১৩ ঘোড়া জবাই, অতঃপর...

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১৯ এএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হোটেলে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ঘোড়া জবাই করে, তা গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে একটি অবৈধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি জবাইকৃত ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এসব ঘোড়া উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো থেকে প্রায় ৩০ মণ মাংস পাওয়া যেত, যা গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।

আরও পড়ুন
chatrolig_leader

জুলাই হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের দুই নেতাসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি, যা জানা যাচ্ছে

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, গত ছয় মাস এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন। তারা হাতেনাতে চক্রটিকে ধরে ফেললেও তিতাস ও রাজিবসহ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বুধবার গভীর রাতে পরিত্যক্ত ঘরটির সামনে গাড়ি আসত। পরদিন সকালে সেখানে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। পরে জানা যায়, ঘোড়া জবাই করে মাংস বস্তায় ভরে গরুর মাংস হিসেবে বাজারে সরবরাহ করতেন তারা। চক্রটি প্রমাণ নষ্ট করতে চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে ফেলতেন।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনো নিয়ম নেই। ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব না হওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যায়নি। তবে জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরটিভি/টিআর