বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:৪৩ পিএম
রাজশাহীর তানোরে একটি ফিলিং স্টেশনে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার শাহিন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটছে বলে ভিডিওতে দেখা যায়। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ করে দেওয়া হয় তেল সরবরাহ।
পরে পুলিশ পাম্প কর্তৃপক্ষ ও ট্যাগ অফিসার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শুরু হয় তেল বিতরণ কার্যক্রম। কিছুক্ষণ পরে পুনরায় শুরু হয় হট্টগোল। পুলিশ লাঠিপেটা করে দুষ্কৃতকারীদের সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় তেল সরবরাহ করা হয়। এভাবেই সকাল থেকে দিনভর হট্টগোল। তবে মারধরের মধ্যেও তেল সরবরাহ করা হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা যুবলীগ নেতা মুন্ডুমালা বাজারের বাসিন্দা আবু রায়হান তপন, বাস মাস্টার হবিবুর, ফয়সালসহ তাদের নেতৃত্বে তানোর সদরের মোটরসাইকেল চালকদের বেধড়ক পেটাচ্ছেন। তখন যুবলীগ তপন বলছেন—ধর মার, তাদেরকে কোনো তেল দেওয়া হবে না, তারা তানোর থেকে কেন তেল নিতে আসবে, তাদের লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দাও।
জানা যায়, ঘণ্টাব্যাপী চলে মারধর। এতে বেশকিছু মোটরসাইকেল চালক আহত হন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শাহিন ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, যারা মারধর করেছে তারা কেউ তাদের লোক নয়। তারা নিজেরাই মারধর করেছেন।
পাম্প মালিক মোজাম্মেল হক জানান, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। এখানে ধৈর্য ধরে তেল নিতে হবে। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রাস্তার হট্টগোল শুরু হয়। পরে সবার প্রচেষ্টায় পরিবেশ স্বাভাবিক হয় এবং তেল বিতরণ শুরু করা হয়।
ট্যাগ অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, ফিলিং স্টেশনের ভেতরে হট্টগোল হয়নি। সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথমে ৫০০ টাকা করে তেল দেওয়া হচ্ছিল। পরে কমিয়ে ৩০০ টাকার করে মোটরসাইকেল প্রতি তেল দেওয়া হয়।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খান বলেন, ‘তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আতঙ্কিত হয়ে বাইক চালকরা প্রয়োজন না থাকলেও তেল নিচ্ছে। আবার অনেক বাইক চালক তেল নিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। এসব কারণে দীর্ঘ লাইন। অপরদিকে ডিজেল তেল নিয়ে কোনো সমস্যার কথা শোনা যায়নি।’
আরটিভি/এসএস