images

দেশজুড়ে

সরকারী প্রকল্পের ৬০টি গরু ‘নিখোঁজ’, তথ্য দিতে নারাজ মৎস্য কর্মকর্তা

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৩৭ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০টি গরুর কোনো হদিস মিলছে না।

সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান।

চলতি অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নিবন্ধিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৬০টি গরু ও গোখাদ্য বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব গবাদিপশু প্রকৃত জেলেদের মধ্যে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে কাদের মধ্যে গরুগুলো দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সাংবাদিকরা সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণের বিস্তারিত জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খানের কার্যালয়ে গেলে তিনি অসহযোগিতা করেন। সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা না করে উল্টো ক্ষুব্ধ হয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান সাংবাদিকদের বলেন, ৬০টি গরু জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে আমার কাছে বর্তমানে সুবিধাভোগীদের কোনো তালিকা নেই। তালিকা আমি প্রকল্প অফিসে জমা দিয়ে দিয়েছি। আমি আপনাদের কোনো তালিকা দিতে পারব না।

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছে নিজ দপ্তরের চলমান প্রকল্পের তালিকা না থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের গরু না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে অথবা অনিয়মের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের তালিকা অবশ্যই উপজেলা মৎস্য অফিসে থাকার কথা। কেন তিনি সাংবাদিকদের তালিকা দিচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং পরে আপনাদের জানানো হবে।

সরকারি প্রকল্পের ৬০টি গরু বিতরণে এমন অস্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তার রহস্যজনক আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন, সেখানে প্রকল্পের তথ্য গোপন করার পেছনে মূল রহস্য কী? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরটিভি/টিআর