রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৪৪ পিএম
খুলনার পাইকগাছার আলোচিত শ্রীলেখা সানা হত্যা মামলায় সম্ভু সানা (৬৫) ও সঞ্জয় সানা (৪৫) নামে দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারা উভয়ই সোলাদানা ইউনিয়নের পশ্চিম দীঘা গ্রামের বাসিন্দা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) তাদের রিমান্ড আবেদন চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার নিজ বাড়ির এলাকা থেকে সম্ভু ও সঞ্জয় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত শ্রীলেখা সানার পরিবারের সঙ্গে সম্ভু সানার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে এমন ধারণা থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
থানা সূত্রে জানা গেছে, শ্রীলেখা মামলার রহস্য উদঘাটনে নিহতের দেবর প্রসেন সানা, স্ত্রী বিজলী, ছেলে হিরক সানা এবং পুত্রবধূ রাখি সানাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। এতে করে তদন্ত এক পর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়লেও পুলিশ বিকল্প সূত্র ধরে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধারে থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও স্থানীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। সবশেষ এসব তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যার আড়াই মাস পর সন্দেহভাজন দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজিজুর রহমান জানান, দীর্ঘ তদন্তের পর সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সম্ভু সানা ও সঞ্জয় সানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
পাইকগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে পশ্চিম দীঘা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফণীন্দ্র নাথ সানার স্ত্রী শ্রীলেখা সানাকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। পরদিন সকালে স্বজনরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রান্নাঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ২৩ জানুয়ারি নিহতের একমাত্র ছেলে গোবিন্দ সানা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরটিভি/এমএম