সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:১৮ পিএম
৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ গাজীপুরের যুবলীগ নেতা ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে তাদেরকে ঢাকার গুলশান থানার ৩৬ নম্বর রোডের ১১/এ নম্বর বাসার সামনে থেকে আটক করা হয়। এসময় জাল টাকা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আবু হানিফ পালোয়ান (৫০), রেজাউল শেখ (৪০) ও আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিক (২৪)।
গুলশান থানা পুলিশ জানায়, মিরপুর এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে জাল টাকা নিয়ে গুলশানে আসেন আবু হানিফ ও আশিক। অন্যদিকে রেজাউল শেখ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং জাল টাকা সহ হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, এ সময় তাদের কাছে থাকা একটি বাজারের ব্যাগে রাখা ১ হাজার টাকার ৫০টি বান্ডেলে মোট ৫০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জাল নোট বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার রেজাউল শেখ কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী সদস্য এবং নাগরী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি। তিনি গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বাগদী গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। রেজাউল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার হঠাৎ করে শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ার বিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানায়, রেজাউল শেখ জাল টাকার ব্যবসা করে তার নিজ এলাকা কালীগঞ্জের নাগরী বাজারে নাগরী নিউ মার্কেট নামে ১০ তলা একটি আলিশান মার্কেট করেছেন। জিএমপির প্রস্তাবিত পুবাইল থানার পাশে ৪ ইউনিটের একটি ৭ তলা বাড়ি, একই থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কুদাব বাগিচা এলাকায় ১০ কাঠার প্লটে বাড়ি, পূবাইল ছিকুলিয়া এলাকায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জমিসহ শতকোটি টাকার মালিক বনেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরীর একাধিক স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, এক সময় তার বাবা সুরুজ মিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ধান কিনে ওই ধান বাজারে বিক্রি করে কোনোরকম দিন কাটাতেন। কিন্তু তার ছেলে রেজাউল হঠাৎ করে এতো অর্থ সম্পদের মালিক হয় কীভাবে? এখন জানা গেলো সে অবৈধ জাল টাকার ব্যবসা করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
তারা আরও জানা যায়, রেজাউল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি মেহের আফরোজ চুমকির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করত না। এখন রেজাউল জাল টাকাসহ গ্রেপ্তারের পর এলাকা মানুষ মুখ খুলছে এবং তাকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। সকলের প্রশ্ন একটাই অবৈধ উপার্জন ছাড়া একজন মানুষ হঠাৎ করে এত দ্রুত কোটিপতি হওয়া সম্ভব না। রেজাউলের এই অবৈধ সম্পদের উৎসব কোথায় তা দুদককে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তারা।
আরটিভি/এসএস