images

দেশজুড়ে

প্রতিটি জাতি নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বাধীনভাবে উৎসব পালন করবে: সাচিং প্রু

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:৪৫ পিএম

প্রতিটি জাতি নিজস্ব সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বাধীনভাবে তাদের উৎসব পালন করে যাবেন বলেছেন বান্দরবান সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পাহাড়িদের সাংগ্রাই উৎসব উদ্ধোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃায় তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, বান্দরবান একটি সম্প্রীতির জেলা। বহু বছর পর সকলের অংশগ্রহণে সাংগ্রাই উৎসবটি পালন করে হচ্ছে। জেলার সকল সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব মিলেমিশে এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উপভোগ করবেন।  

বান্দরবানে প্রতিবছর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে পালিত হয় পাহাড়িদের প্রাণের উৎসব সাংগ্রাই। এই উৎসবের পানি খেলার মাধ্যমে পুরনো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেন পাহাড়িরা। 

এ সময় সাংসদ সাচিং প্রু একটি শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এটি জেলা শহরের রাজার মাঠে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শেষ হয়। সেখানে বয়স্ক পূজা, যেখানে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন নবীন প্রজন্ম। এই পূজার মধ্য দিয়ে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

আরও পড়ুন
Bandarban

পহেলা বৈশাখে বিনামূল্যে প্রবেশ করা যাবে বান্দরবানের যেসব পর্যটন কেন্দ্রে

এদিকে শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমী, তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা, ম্রোসহ ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন। তাদের বর্ণিল উপস্থিতি আর নৃত্য-গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন এবং আনন্দে মেতে ওঠে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা। 

এছাড়াও বিকেলে প্রতিটি মারমা পাড়ায় পাড়ায় আয়োজন করা হয় পিঠা তৈরির উৎসব। পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন সবাই। উৎসবের এই অংশটি পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। 

অপরদিকে পাহাড়ী তরুন-তরুনীরা জানান, পানি বর্ষণের মাধ্যমে অতীতের সকল দুঃখ, জরা, গ্লানী, পাপ ধুয়ে মুছে সুখ সমৃদ্ধির প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করেন। বুদ্ধ মূর্তি স্নান করিয়ে মহা পূণ্য অর্জনের জন্য পুরানো বছরের সকল দুঃখ, গ্লানি মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেন এই সাংগ্রাই উৎসবে। 

সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটি আহ্বায়ক চথুইপ্রু মারমা বলেন, সাংগ্রাইয়ে পাহাড়ের ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, সাংগ্রাই শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পাহাড়ের মানুষের জীবনের সাথে মিশে থাকা এক অনন্য সংস্কৃতি। যেখানে আনন্দ, সম্প্রীতি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে নতুন বছরের সূচনা হয় আশা আর ভালোবাসার বার্তা নিয়ে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে পাহাড়ী-বাঙালিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের উপস্থিতিতে এক উৎসবের নগরিতে পরিণত হয়। 

আরটিভি/এমএম