মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:১৩ এএম
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় জুতা নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তারা মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার মঈনপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম কিবরিয়া ওরফে তারা মিয়া (৫৫) মইনপুর গ্রামের মৃত সামসু রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে মঈনপুর গ্রামের প্রতিপক্ষ আজিজুলের ছেলে ছালিহ আহমদ হঠাৎ পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে একটি জুতা নিক্ষেপ করেন। পরে তারা মিয়ার ছোট ভাই সেই জুতা লাথি দিয়ে সরিয়ে দেয়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সালেহ আহমদের পক্ষের লোকজন এসে তারা মিয়ার ছোট ভাইদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ভাইদের বাঁচাতে তারা মিয়া এগিয়ে আসলে সালেহ আহমদ ও তার সাত-আট জন সহযোগী তাকে বেধড়ক আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৫-৭ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরে তারা মিয়া গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
নিহতের ভাই রুমান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর জুতা নিক্ষেপ করা হয় এবং পরে আমার ভাইসহ আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমরা আমার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
সুনামগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
আরটিভি/এমএম