বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৪৬ পিএম
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও ভেসে এলো প্রায় ৪০ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির একটি মৃত অলিভ রিডলি প্রজাতির মা কচ্ছপ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর ৬টায় দিকে কাউয়ারচর ঝাউবন সূর্যোদয় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে কচ্ছপটি ভেসে আসে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আ. জলিল প্রথম কচ্ছপটি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যদের অবহিত করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অশনিসংকেত। দূষণ, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ ধরনের মৃত্যুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, বারবার এভাবে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বন বিভাগ মহিপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কচ্ছপটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পরে ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা যৌথভাবে মৃত কচ্ছপটিকে মাটি চাপা দেন।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা কচ্ছপের এই প্রজাতিকে জলপাইরঙা সাগর কাছিম বা অলিভ রিডলি কচ্ছপ বলে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান জানান, সৈকত এলাকায় কচ্ছপের আবাসস্থল ধ্বংস, অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, সৈকতে আলোকায়ন, কুকুরের আক্রমণ, কারেন্ট জাল ও টানা জালের ব্যবহার, সমুদ্রে পরিত্যক্ত জাল এবং বিহিংগি জাল ফেলে দেওয়া ইত্যাদি অপরিণামদর্শী কারণে বাংলাদেশে কচ্ছপের এই প্রজাতি হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) লাল তালিকায় অলিভ রিডলে প্রজাতির কচ্ছপকে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরটিভি/টিআর