বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৫৯ এএম
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজাতে মাথা ও হাতের কবজিবিহীন গৃহবধূর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার উপপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তারেক (২৬) মহেশখালী পৌরসভার দাসী মাঝিপাড়ার বাসিন্দা। নিহত শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নী (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়রা একটি ময়লা-আবর্জনার ডোবায় বেডশিট মোড়ানো অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ঘটনার ৪ থেকে ৫ দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিহতের মা বাদী হয়ে স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পলাতক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে ১৩ এপ্রিল রাতে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজারে আনা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, প্রায় ৬-৭ মাস আগে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তৃতীয় বিয়ে করায় দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জেরে তিনি পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন এবং পরে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন। পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও কবজি বিচ্ছিন্ন করে বাঁকখালী নদীর নতুন ব্রিজের নিচে ফেলে দেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে ভাড়া বাসা থেকে।
উপপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, বুধবার দিনব্যাপী গ্রেপ্তার আসামিকে নিয়ে বাঁকখালী নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে নিহতের মাথা ও হাতের কবজি ফেলে দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে নিখোঁজ অংশ উদ্ধার করা যায়নি।
আরটিভি/টিআর