বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৫৩ পিএম
মা-বাবা ছোট দুই ভাই ও বোনকে বেশি ভালোবাসেন। বিষয়টি নিয়ে হতাশ ১২ বছর বয়সি কিশোরী শিরিন (ছদ্মনাম)। সে ভাবছে পরিবার তাকে অবহেলা করছে। কীভাবে বাবা-মায়ের ভালোবাসা পাওয়া যায়, জানার জন্য সে বিভিন্ন ভিডিও দেখা শুরু করল। সন্ধানে নেমে সে খোঁজ পেল মো. খোরশেদ নামে এক তান্ত্রিকের। কিশোরীর সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন ওই তান্ত্রিক।
এ জন্য কবিরাজ নামে দুটি এবং আল্লাহর দান নামে একটি ইমো অ্যাকাউন্ট থেকে কিশোরীরর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। সমস্যা সমাধানের জন্য কিশোরীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নেন ওই তান্ত্রিক। একইসঙ্গে নেওয়া হয় ২৭ ভরি স্বর্ণ। একপর্যায়ে পরিবার জানতে পেরে বুঝতে পারে কিশোরী প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের জেলা পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকা থেকে তান্ত্রিক মো. খোরশেদের দুই সহযোগী মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি উপজেলার মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে তান্ত্রিকের ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ
পরে মনির হোসেনের বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সসহ মোট পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।
পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, ওই কিশোরী শেরপুর সদরের মাধবপুর এলাকার বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রথমে টিকটকে মো. খোরশেদ কবিরাজ নামে এক প্রতারকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে প্রতারকের সহযোগীরা ইমোতে কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করত। তারা কবিরাজ ফি, খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, দুধ ও ফলসহ নানা সামগ্রী কেনার কথা বলে গত ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ধাপে-ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরে আরও টাকার দাবি জানিয়ে কিশোরীর কাছ থেকে কৌশলে তার মা-বাবার প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে আবার বিকাশে টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হলে বিষয়টি কিশোরীর বাবাকে জানায়। এতে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে এবং কিশোরীর বাবা শেরপুর থানায় মামলা করেন।
পংকজ দত্ত বলেন, মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নজরে এলে তার নির্দেশে জামালপুর পিবিআই তদন্ত শুরু করে। রহস্য উদ্ঘাটনে আমাদের একাধিক টিম কাজ করেছে। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মূলহোতাসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
আরটিভি/এসএস