বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২১ পিএম
২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২০শে এপ্রিল দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
এদিকে এ মামলার মোট ৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এদিকে আজ সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।
পলাতকরা হলেন- যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।
এ বিষয়ে গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, যশোরে দুই নেতার পায়ে গুলি লাগার ঘটনাটি পদ্ধতিগত ও ব্যাপক মাত্রায় অপরাধ নয়। এটি নির্দিষ্ট বেসামরিক জনগণের ওপরও আক্রমণ নয়। ফলে এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে না। এ কারণে এটি ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় আসে না। ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি চান তারা। পরে ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের তারিখ ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন বলেছে, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। পরে গুলি করা ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে তাদের পায়ে পচন ধরে। একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।
উল্লেখ্য, যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজন এ মামলায় আসামি। এর মধ্যে তিনজন কারাগারে আছেন। আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।
আরটিভি/এসএস