রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:০৮ এএম
চাঁদপুরে পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন করে বিয়ের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের গাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজীর ছেলে মহিম উদ্দিন রুবেলের সঙ্গে দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে রিমা আক্তারের ২০২৪ সালে ১৪ আগস্ট বিয়ে হয়। বিয়ের পর রুবেল প্রবাসে চলে যান। কয়েকমাস আগে তিনি দেশে ফিরে এসে স্ত্রী রিমা আক্তারকে গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দেন।
এর মধ্যে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রুবেলের পুনরায় বিয়ের দিন ধার্য্য করে তার পরিবার। এই সংবাদ পেয়ে রুবেলের আগের স্ত্রী রিমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা রুবেলের বাড়িতে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ৭ জন আহত হন।
আহতের মধ্যে রিমা আক্তার, তার মা কোহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাতো ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগম। এর মধ্যে গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। এ ছাড়া রুবেলের পরিবারের কয়েকজন আহত হন।
রিমা আক্তার বলেন, রুবেল প্রায় ৪ মাস পূর্বে দেশে ফিরে আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। কয়েকদিন আগে আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে এসে আর খোঁজ নেয়নি। শুনেছি সে আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে, যা সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, শনিবার সে আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের বেশ কয়েকজনকে বেদম পিটিয়ে আহত করেছে।
অন্যদিকে মহিম উদ্দিন রুবেল বলেন, রিমা শারীরিকভাবে অক্ষম। তাই গত ৩ মার্চ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাকে তালাক দিয়েছি। শনিবার আমি আবার বিয়ের করতে যাওয়ার সময় তারা আমাদের বাড়িতে এসে হামলা করে। আমাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।
আরটিভি/আইএম