বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৫৪ পিএম
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর মৌজায় রাতের আঁধারে অবাধে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে গভীর গর্ত করে এসব মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে দ্রুত উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষিজমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে মাটি কাটার এ কার্যক্রম। মাটি ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যরা জমির মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অল্প দামে মাটি কিনে অন্যত্র বিক্রি করছে। এতে তারা লাভবান হলেও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষিজমি ও কৃষকরা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর মৌজায় ইসরাফিল ও কালাইচান মাতবর নামের দুজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কালাইচান মাতবর বলেন, আমি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই, ইসরাফিল কাটে।
অপরদিকে ইসরাফিলও দাবি করেন, আমি জড়িত না, অন্যরা এসব কাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, ইসরাফিল ও কালাইচান মাতবর এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলে বাড়িঘরে হামলার ভয় থাকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলেকচান সজিব বলেন, আমি বারবার বাধা দিয়েছি, কিন্তু ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করতে পারছি না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন বলেন, “আমি জড়িতদের একাধিকবার নিষেধ করেছি। বর্তমানে তারা মাটি কাটছে কিনা জানা নেই। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করবো।
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটলে জমির উর্বরতা কমে যায় এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী।
সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন বলেন, আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ফসলি জমি রক্ষা এবং অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আরটিভি/এসএস