images

দেশজুড়ে

প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণে ৩৫ হাজার টাকায় গোপন মীমাংসার অভিযোগ 

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০২ পিএম

মুন্সীগঞ্জে এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে গোপন সালিশের মাধ্যমে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কলমা বাজার প্রদক্ষিণ করে নির্মাণাধীন ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রায় আধাঘণ্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার বাশিরা গ্রামের রিকশাচালক শাহ আলম শেখের মেয়ে। তার অভিযোগ, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরন দোকানদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বুধবার রাতে লৌহজং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মামুন ফরাজিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

আরও পড়ুন
Web-Image

৪৬ ঘণ্টা পর পুনরায় চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন

জানা গেছে, মামুন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরবাদকাটি গ্রামের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাশিরা গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন।

এদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে গোপন সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। মাত্র ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ মীমাংসার চেষ্টা করায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যায় না। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে গোপন সালিশে জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরন দোকানদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গোপন সালিশের বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ কিছু জানায়নি। তবে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/ এমএ