images

দেশজুড়ে / প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রে খুন জামিলের বাড়িতে মাতম, রহস্য উন্মোচন চায় পরিবার

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিএইচডির শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের খুন হওয়ার খবরে তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির আঙিনা। প্রবাসে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া ২৭ বছর বয়সী এই তরুণের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা। পরিবারের একটাই চাওয়া এখন— হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

নিহত জামিল আহমেদ মাদারগঞ্জের কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকার জহুরুল হকের ছেলে। কর্মসূত্রে জহুরুল হক দীর্ঘদিন বসবাস করছেন গাজীপুরের মাওনা এলাকায়। সেখানেই জামিলের বেড়ে ওঠা ও পড়ালেখা। পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যেই গ্রামের বাড়ি মহিষবাথানে যেতেন জহুরুল হক।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে মহিষবাথান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শোকাহত স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে স্তব্ধ পুরো বাড়ি।

জহুরুল হকের দুই ছেলের মধ্যে জামিল ছিলেন বড়। ছোট ছেলে জোবায়ের হোসেন। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে জামিলকে ঘিরে সবার অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ছিল। সেই স্বপ্নই শোকে রূপ নিয়েছে আজ। জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জামিলের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ পুরো মহিষবাথান গ্রাম। বাড়ির আঙিনায় জড়ো হয়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা। সবার মুখে একই প্রশ্ন—কীভাবে এমন পরিণতি হলো এই তরুণের? স্বজনেরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জামিলের মরদেহ দেশে ফেরার। তবে গ্রামের বাড়িতে তাঁর মা–বাবা ও ছোট ভাই নেই। তাঁদের ঘরে তালা ঝুলছে। বাড়িতে থাকা চাচা-চাচিসহ স্বজনদের দাবি—জামিলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন
bristy-Picsart-AiImageEnhancer

এখনও মেলেনি বৃষ্টির মরদেহ, মেয়ের মুখটা অন্তত একবার দেখার আকুতি বাবার

জামিলের বাবার বন্ধু জসিম উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই জামিল অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। পড়ালেখার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। সবার সঙ্গে সহজে মিশতেন এবং বন্ধুদের কাছে ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বড় স্বপ্ন ছিল। এমন সম্ভাবনাময় জীবনের অকাল সমাপ্তি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

নিহতের চাচা জিয়াউল হক বলেন, জহুরুল হক আমার ছোট ভাই। সে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করেন। আমার দুই ভাতিজা ঢাকায় লেখাপড়া করত। জামিল বাংলাদেশে লেখাপড়া শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা এক রকম স্তব্ধ হয়ে গেছি। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আরটিভি/এসএইচএম