মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:০৫ পিএম
কয়েক সেকেন্ডের ঝলক, আর তাতেই নিভে যাচ্ছে শত শত প্রাণ। বাংলাদেশে বজ্রপাত এখন এক ভয়ংকর বাস্তবতা। এক দশকে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু। তবুও কমছে না ঝুঁকি। প্রশ্ন উঠছে, দেশের কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়? আর কেনই বা সেখানে এই ভয়াবহতা বেশি?
কোথায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত
আবহাওয়ার তথ্য বলছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি এই জেলার একটি উপজেলাকে বজ্রপাতের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে ধরা হয়। শুধু বজ্রপাতই নয়, প্রাণহানির সংখ্যাও এখানে সবচেয়ে বেশি।
কেন সিলেটেই বেশি আঘাত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানই এর মূল কারণ। এখানে বড় বড় হাওড় থাকায় প্রচুর জলীয় বাষ্প তৈরি হয়। আবার সাগর দিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাস পাহাড়ে বাধা পেয়ে দ্রুত উপরে উঠে যায়। এতে আকাশে ঘন মেঘ তৈরি হয়। যা বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় গরম ও ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষ। যা বজ্রপাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
কোন সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি
বাংলাদেশে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি হয়। বিশেষ করে বৈশাখ মাসে ঝড় ভয়ংকর রূপ নেয়। এই সময়ের ঝড়কে স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখী বলা হয়। দুপুর থেকে সন্ধ্যার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান যা বলছে
২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছে তিন হাজার ৬৫৮ জন। একসময় এই সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগাম সতর্কতা ও সচেতনতা বাড়ায় এই পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
গ্রামাঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও জেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ তারা ঝড়ের সময়ও খোলা মাঠ বা পানিতে থাকেন। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবও বড় কারণ।
বাঁচার উপায় কী
বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা পানির কাছে থাকা বিপজ্জনক। জরুরি হলে নিচু হয়ে বসে থাকা এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। সচেতনতা আর সতর্কতাই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে জীবন বাঁচাতে।
বজ্রপাত হঠাৎ আসে, কিন্তু এর ঝুঁকি এড়ানো অসম্ভব নয়। সঠিক তথ্য, সচেতনতা আর সময়মতো সিদ্ধান্ত—এই তিনেই লুকিয়ে আছে বাঁচার পথ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ