বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৩ পিএম
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এক কিশোরী রোগীকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার (১৪) শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে এবং নারায়ণগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পেটে ব্যথার কারণে কয়েকদিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আফসানাকে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। কিশোরীর রক্তের গ্রুপ ‘এ নেগেটিভ’। স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর আফসানার কোনো রক্তের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে কর্তব্যরত নার্স ভুলবশত পাশের অন্য এক রোগীর জন্য আনা ‘ও পজিটিভ’ গ্রুপের রক্ত আফসানার শরীরে পুশ করতে শুরু করেন।
রোগীর মা আঞ্জু আরা বেগম জানান, আফসানার পাশে থাকা অন্য এক প্রসূতি রোগীর ‘ও পজিটিভ’ রক্তের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নার্সরা অসতর্কতাবশত সেই রক্ত আফসানার শরীরে দিয়ে দেন। প্রায় ৫০ মিলিলিটার রক্ত শরীরে প্রবেশের পর বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে এবং তারা বাধা দিলে রক্ত দেওয়া বন্ধ করা হয়। পরিবারের দাবি, ভুল রক্ত দেওয়ার কারণে বর্তমানে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
ঘটনা জানাজানির পর চিকিৎসকরা দ্রুত আফসানার বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বরতদের অবহেলা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এ বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শিশুটির অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করা হয়েছে। তাকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয়। সেখানকার দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্সরা ভুল করে তাকে দিয়েছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে রক্ত দেওয়া বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে দায়িত্বে গাফিলতির জন্য যে সমস্যা হয়েছে, এটা বড় ভুল। রক্তটা যদি বেশিক্ষণ চলতো, তাহলে জীবননাশের শঙ্কা থাকতো। অভিযুক্ত নার্স কে, সেটা জানার চেষ্টা চলছে। আমরা সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোশায়েল হোসেন সুমনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করেছি। তিনদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাবার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমআই