images

দেশজুড়ে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত জনজীবন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২৭ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক। প্রবল ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা বাতাসের আঘাতে বাড়িঘর, গাছপালা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় মোবাইল ফোনের টাওয়ার ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

একই সঙ্গে ঝড় ও বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় এক হাজার ৬৭০ হেক্টর পাকা ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

প্রাথমিক হিসেবে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া ও একাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে নামছে চাঁদপুরের অর্ধ লক্ষাধিক জেলে

কসবা উপজেলার তিনলাখ পীর, শিকারপুর, বাদৈর, মূলগ্রাম, মইনপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ৩০টির বেশি বসতঘর আংশিক বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে, কোথাও দেয়াল ধসে পড়েছে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে তিন শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে বা ভেঙে যায়। 

এসব গাছের অনেকগুলো সড়কের ওপর, বাড়িঘরের ওপর এবং বিভিন্ন স্থাপনার ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। কয়েকটি মসজিদ ও মাদ্রাসাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

bb3
ঝড়ে নুয়ে পড়েছে পাকা ধান

 

মোবাইল টাওয়ার ধসে যোগাযোগ বিপর্যয়,সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত ক্ষতির ঘটনা ঘটে উপজেলার তিনলাখ পীর এলাকায়। ঝড়ের তীব্রতায় টাওয়ারটি দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এর ফলে ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি যোগাযোগ, অনলাইন কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎচালিত পাম্প বন্ধ থাকায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবা ও মোবাইল চার্জিং সমস্যার কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।

bb2
ভেঙ্গে পড়া গাছ সরানো হচ্ছে রাস্তা থেকে

এদিন দিনমজুরেরা কাজে বের হতে পারেননি। এতে নিম্নআয়ের মানুষের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান নুয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, ঝড়ে প্রায় এক হাজার ৬৭০ হেক্টর ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কসবা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ১৪টি বিদুৎ খুঁটি উপড়ে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ তার ছিঁড়ে পড়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধাপে ধাপে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

আরটিভি/এমএম