images

দেশজুড়ে

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৪৪ পিএম

বাগেরহাটে মৌসুমী বৃষ্টির পূর্বাভাসের আগেই ধান কাটা শুরু করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু, হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে শেষ রক্ষা হয়নি। জেলায় ৬৮  হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে এবার। অর্ধেকের বেশি ধান এখনো ক্ষেতে। দু‘দিন ধরে বজ্রসহ ভারি বৃষ্টির কারণে সেই ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। একদিকে সূর্যের দেখা না মেলায় কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির ফলে তলিয়ে যাচ্ছে ধানক্ষেত।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক বৃষ্টির আগে ধান কাটলেও রোদের অভাবে তা শুকাতে পারছেন না। আবার যারা ধান কাটতে পারেননি, তাদের ক্ষেতেই জমেছে বৃষ্টির পানি। এতে ধান ঝরে পড়া, পচন ধরা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কচুয়া সদরের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, অনেক কষ্টে ঋণ করে ধান চাষ করেছি। ধান ভালোই হয়েছিল, কিন্তু এই বৃষ্টিতে এখন সব অনিশ্চিত। কিছু ধান কেটেছি, কিন্তু শুকাতে পারছি না। আর যেগুলো মাঠে আছে, সেগুলো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

আরও পড়ুন
bg

বাগেরহাটে দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা

বাগেরহাট সদর উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃষক হাকিম মল্লিক বলেন, বৃষ্টির খবর পেয়ে শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটতে শুরু করি। কিন্তু, টানা বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ। কাটা ধান ভিজে যাচ্ছে, শুকানোর জায়গা নেই। যদি আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

একই এলাকার কৃষক আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, এবার সার, সেচ, শ্রমিক সবকিছুর খরচ অনেক বেশি। ধান ঠিকমতো ঘরে তুলতে না পারলে পুঁজি হারাতে হবে। কৃষকের জন্য এটা বড় ধাক্কা। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের এমন ঝুঁকি তাদেরকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, জেলায় ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টরের ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারলেও প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের ধান কাটা অবস্থায় মাঠে পড়ে আছে। 

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ১০ শতাংশ ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দ্রুত বৃষ্টি কমে গেলে এবং রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

এর আগে, কৃষি বিভাগ কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা, নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে, আকাশে তাকিয়ে এখন প্রহর গুণছেন বাগেরহাটের কৃষকরা। সারা মৌসুমের শ্রম, ঘাম আর বিনিয়োগের সোনালি স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কতটা ঘরে উঠবে সেই প্রশ্নই এখন জেলার কৃষক সমাজের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

আরটিভি/এমএম