বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২৯ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ডা. নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা নামে এক চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে আয়েশা নামে এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গেছে, জেলার সরাইলের পাকশিমুলে পৌর এলাকার উত্তর মৌড়াইলের ওই দম্পতির বাসায় নয় মাস আগে আয়েশা থাকতে আসেন। দম্পতিটি দুই সন্তানের জনক-জননী।
আয়েশার পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে জানানো হয়, আয়েশা চুরি করে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পতির বাড়ির পাশ থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
শিশুটির পিতা অভিযোগ করেন, নানা অজুহাতে তার মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। তার সারা শরীরে অনেক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। অথচ এখন তাকে চোর বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মেয়েকে নির্যাতনকারী চিকিৎসক দম্পতির বিচার দাবি করেন।
সারা শরীরে দাগ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আয়েশা বলে, এক বেলার বদলে তিন বেলা ঘর মুছতে বলত আমাকে। না মুছলে মারত। ভাতটা ‘কাঁচা’ (নরম) হলেই আমাকে মারত। গরম তেল দিয়ে ছিটা মারত। আমাকে লাঠি দিয়ে মারত।
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক নোমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মেয়েটি আমার বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে নয়, সন্তানদের খেলার সঙ্গী হিসেবে থাকত। আমার স্ত্রী যখন গর্ভবতী ছিলেন, তখন তাকে আনা হয়। সে আমার দুই বছরের সন্তানের সঙ্গে খেলত।
নোমান আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে যান। তবে তার স্ত্রী ও সন্তানরা বাসায় ছিলেন। ২২ এপ্রিল আয়েশা ঘরের আলমারি থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তিনি ফিলিপাইন থেকে দেশে ফিরে আসেন। এ বিষয়ে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় মেয়েটির নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে জেনে আসার জন্য। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক দম্পতিকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই দম্পতি শিশুর বিরুদ্ধে চুরির কোনো অভিযোগ দেননি।
আরটিভি/টিআর