images

দেশজুড়ে

চুয়াডাঙ্গায় খরগোশ শিকার করায় চারজনের কারাদণ্ড

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১০:৪৮ এএম

বন্যপ্রাণী খরগোশ হত্যা ও শিকারের অপরাধে চুয়াডাঙ্গায় চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। শিকারিদের কাছ থেকে ৬টি মৃত ও ৫টি জীবিত খরগোশ উদ্ধার করা হয়েছে। খরগোশগুলো ফাঁদ পেতে ধরার পর দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়। জীবিত খরগোশগুলো বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহ গ্রামের কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, সাধুহাটি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলীর ছেলে সাদগার আলী, একই গ্রামের সাধু মণ্ডলের ছেলে সুকুমার মণ্ডল এবং মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলার সাধুহাটি এলাকা থেকে ১৪–১৬ জনের একটি বন্যপ্রাণী শিকারি দল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে আসে। এ সময় তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে মাঠে খরগোশ শিকারের জন্য ফাঁদ পাতে। ছয়টি খরগোশ ফাঁদে আটকা পড়ার পর সেগুলো দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হয় এবং পাঁচটি জীবিত খরগোশ আটকিয়ে রাখা হয়।

বন্যপ্রাণী খরগোশ শিকারের বিষয়টি জানতে পারেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। তিনি বিষয়টি সদর উপজেলা বন বিভাগকে অবহিত করেন।

বিকেলে তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্প, বন বিভাগ ও স্থানীয় বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে অভিযান চালিয়ে চার শিকারিকে আটক করে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।

বিষয়টি সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলামকে জানানো হয়। রাতে তিনি ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে চারজনকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দেন। এ সময় জীবিত পাঁচটি খরগোশ বনে অবমুক্ত করা হয়। মৃত খরগোশগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

সাজাপ্রাপ্তদের রাতেই পুলিশ প্রহরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা-সহ স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/টিআর