images

দেশজুড়ে

চাঁদপুরে জাটকা ধরায় দুই মাসে ৭ শতাধিক জেলের কারাদণ্ড

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ০৩:৪৫ পিএম

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরায় ৭ শতাধিক জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক জেলেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ১৪ কোটি মিটার জাল, ৮ হাজার কেজি মাছ ও ১৭০টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১৫০টি।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা সময়ে বিপুল পরিমাণ জাল-নৌকাসহ জেলেদের আটক করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলসংকটে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে নদীতে তেমন মাছ নেই। এবারের অভিযানে এ পর্যন্ত ১৪ কোটি মিটার জাল, ৮ হাজার কেজি মাছ ও ১৭০টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১৫০টি এবং ৫ শতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৩৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চর ভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ৬০৯টি অভিযান পরিচালনা করে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করার জন্য ৩৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন, দুই মাসের অভিযানে জব্দ করা হয় ৫.০৩৫ মেট্রিক টন জাটকা ও ০.৭৪২ মেট্রিক টন অন্যান্য প্রজাতির মাছ। ইলিশ মাছ ধরার জাল ০.০২০ লাখ মিটার, কারেন্ট জাল ১১.৭৭৮ লাখ মিটার এবং অন্যান্য জাল ০.৩২৮ লাখ মিটার। অভিযানে জেলে আটকের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৩৭টি। মতলব উত্তর উপজেলায় জব্দকৃত নৌকা নিলামে বিক্রি হয় ২৮ হাজার টাকায়। জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

বেশ কয়েকজন জেলে জানান, কিছু অসাধু জেলে অধিকাংশ সময় জাটকা ধরে নিয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞার সময় যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে তাদের চলা কঠিন। তাদের আশঙ্কা, একদিকে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম, অন্যদিকে অবাধে জাটকা ধরার কারণে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দুই মাস পর নদীতে নেমেও যদি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়া যায়, তবে তাদের কষ্ট ও হতাশার শেষ থাকবে না। কারণ তারা বিভিন্ন সমিতি থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চর ভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকাসহ ৬টি নদী অঞ্চলে মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও চলতি বছর জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে নদীতে তেমন জোরালো অভিযান দেখা যায়নি। ফলে অনেক জেলে সুযোগ নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে জাটকাসহ বিভিন্ন মাছ আহরণ করেছে।

এদিকে ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, এ বছর ৭০–৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর সুফল পাবে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা উপকূলীয় এলাকার জেলেরা।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানকালে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ৪০ কেজি করে ৪ কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল প্রদান করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় মাছ শিকারে নেমেছেন চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে।

আরটিভি/টিআর