শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ০৫:০৯ পিএম
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে টিএমএসএস নামের একটি এনজিও থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মোছা. জান্নাতি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জান্নাতি ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। তাদের দেড় বছর বয়সী আব্দুর রহিম নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বর্তমানে জান্নাতি খাতুন ছেলেসহ তাড়াশ থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
জানা গেছে, উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বছরখানেক আগে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের এনজিওতে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার পদে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি চাকরির শর্ত অনুযায়ী ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন। পাশাপাশি আব্দুর রাজ্জাক ওই শাখা থেকে তার স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেন। পরে তিনি টিএমএসএস-এর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।
এদিকে আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, ওই এনজিও থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার টাকা কয়েক কিস্তিতে পরিশোধ করেছেন। পাশাপাশি চাকরিকালীন সময়ে জমা রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা স্ত্রীর ঋণের সঙ্গে সমন্বয় করতে শাখা ব্যবস্থাপককে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু এনজিও কর্তৃপক্ষ ওই জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয় না করে তার স্ত্রী জান্নাতির নামে আদালতে মামলা করে। কত টাকা দাবি করে মামলা করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
মামলায় ঋণগ্রহীতা হিসেবে জান্নাতির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে তাড়াশ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, মূলত জান্নাতি খাতুনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরটিভি/টিআর