শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১১:১৮ পিএম
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ‘অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের’ হামলার গল্প ছড়ানো হলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্ত্রী ও সন্তানের হাতেই খুন হয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ের পর ২০০৭ সাল থেকেই তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে রহিমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা বসবাস শুরু করেন। প্রায় ৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের আবার বাড়িতে নিয়ে এলেও বিরোধের অবসান হয়নি।
গত ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। একপর্যায়ে স্ত্রী রহিমা বেগম ও তাদের ছেলে রবিউল হাসান রাকিব (১৮) মিলে ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
ঘটনার পর তারা হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে এলাকায় প্রচার করেন, রাতে আলমগীর ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার(১মে) ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিমা বেগম ও তার ছেলে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামা দা উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, শুরু থেকেই তাদের বক্তব্যে অসংলগ্নতা ছিল। পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের মরদেহ তার বাড়ির বাইরে পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই স্ত্রী ও সন্তান অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
আরটিভি/এসকে