images

দেশজুড়ে

চাঁদা না দেওয়ায় বাড়িছাড়া ৬ পরিবার

শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ০৫:৪৮ পিএম

একটি ফসলি জমি কেনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় গ্রাম্য প্রধানদের ৫ লাখ টাকার চাঁদার আবদার পূরণ না করায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ছয়টি পরিবারের নারী-শিশুসহ ২১ জন সদস্য প্রায় ৬ মাস যাবৎ বাড়িছাড়া হয়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বলভা গ্রামে।

এদিকে শনিবার (২ মে) দুপুরে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এর প্রতিকার চেয়ে তাড়াশ থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি—এমন অভিযোগ করেছেন।

অবশ্য এ বিষয়ে তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান শনিবার দুপুরে জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। এমনকি এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে একাধিকবার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে এজাহার দাখিলের জন্য ডাকা হয়েছে। কিন্তু তারা আসেন না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পক্ষে মো. রুবেল রানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই পরিবারের নারী সদস্য মোছা. জাহেরা খাতুন, মোছা. আমিনা খাতুন, মোছা. ফুয়ারা খাতুন, মোছা. নাসরিন খাতুনসহ শিশু ও পুরুষ সদস্যরা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বলভা গ্রামের একটি ফসলি জমি তার বাবা মো. আহসান হাবিব কেনেন। কেনার পর ওই গ্রামের গ্রাম্য প্রধান মো. নাসির উদ্দিন, মো. আব্দুল মতিন, মো. হালিম হোসেন ও মেহেদী হাসান আমাদের ছয় ভাইয়ের কাছে জমি কিনেছি—বিধায় আমাদের টাকা আছে এমন ধারণা করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

কিন্তু আমরা সে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রথমে আমাদের ছয় ভাইকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখান। এরপর আমরা টাকা না দিলে তারা আমাদের বাড়িঘরের ওপর চড়াও হয়ে ভাঙচুর করে এবং ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, পানি সেচের ২টি পাম্প, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপসহ আসবাবপত্র লুটপাট করে। একই সঙ্গে তারা আমাদের বসতভিটার সব ঘরে তালা দিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়াও আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিলে আমরা ছয়টি পরিবারের ২১ জন সদস্য প্রাণভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি প্রায় ৬ মাস যাবৎ।

এমনকি আমাদের পরিবারের দুজন সদস্য—মোছা. ছাবিকুন নাহার মিম ও মোছা. আরিফা খাতুন নামের এসএসসি পরীক্ষার্থী—বাড়িছাড়া হয়ে তাড়াশে ভাড়া বাসায় থেকে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও স্কুলে যেতে পারছে না ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. মিথিলা খাতুন, ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আহাদ আলী ও মো. সিয়াম হোসেন। মূলত এসব শিক্ষার্থী ৬ মাস ধরে স্কুলেই যেতে পারছে না। এতে করে তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে।

একই সঙ্গে আমাদের প্রায় ৯ বিঘা ফসলি জমির ফসল পেকে গেলেও ঘরে তুলতে পারছি না।

মুঠোফোনে ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে গ্রাম্য প্রধান মো. নাসির উদ্দিন জানান, জমি-জমা নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিরোধ আছে, কিন্তু আমরা কোনো চাঁদা দাবি করিনি। আর লুটপাট প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, এজাহার দিলে মামলা নেওয়া হবে। এছাড়াও শুনেছি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা চলছে।

আরটিভি/টিআর