images

দেশজুড়ে

প্রবেশপত্র দিচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ, নিতে গিয়ে মারধরের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী

শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ০৬:২৭ পিএম

ঢাকার ধামরাইয়ে এক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাংলা ও ইংরেজিসহ চারটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এক পরীক্ষার্থী।

এমন ঘটনা ঘটেছে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কৈলাস চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রায়হান হোসেনের সঙ্গে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা নাজমা বেগম।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সব পাওনাদি পরিশোধ করা সত্ত্বেও রহস্যজনক কোনো কারণে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রের প্রবেশপত্র আটকে রাখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মামুরা গ্রামের গোলাম হোসেন ও নাজমা বেগমের সন্তান মো. রায়হান। তিনি কৈলাস চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েন। কৃষক গোলাম হোসেন বহু কষ্টে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় সহপাঠীদের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও রায়হান নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকক্ষে বসতে পারেননি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে যখন সব বন্ধুরা প্রবেশপত্র নিচ্ছিল, তখন সেও স্কুলে যায়। কিন্তু সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, তার প্রবেশপত্র আসেনি। দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তার এক বন্ধু জানায়, তার আসনটি প্রতিদিন ফাঁকা থাকে। তখন প্রশ্ন ওঠে—তাহলে তাকে কেন প্রবেশপত্র দেওয়া হলো না? পরে সে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারে, তার প্রবেশপত্র বিদ্যালয়ে থাকলেও তাকে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই তিনটি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এই পরীক্ষার্থী।

রায়হানের বন্ধু পারভেজ জানান, প্রথম পরীক্ষা দিতে গিয়ে সে দেখে তার সামনের আসনটি ফাঁকা। তখন তার সন্দেহ হলেও নিজের পরীক্ষার চাপে সেদিন খোঁজ নিতে পারেনি। পরবর্তী পরীক্ষায় সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওই আসনটি রায়হানের। পরে সে বিষয়টি রায়হানকে জানায়।

রায়হানের মা নাজমা বেগম জানান, শুধু প্রবেশপত্র আটকে রাখাই নয়, পরে যখন প্রবেশপত্র নিয়ে চতুর্থ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাবে, ঠিক সেদিন সকালে স্কুলের অফিস সহকারী আমজাদ রায়হানকে তার বাসায় ডেকে নেয়। রায়হান ও তার বন্ধু সেখানে গেলে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রবেশপত্র নিতে চায় ওই অফিস সহকারী। একপর্যায়ে রায়হানকে মারধর করে এবং তাকে আটকে রাখতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে, তিনি সেখান থেকে পালিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

রায়হানের বাবা বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার ছেলে যাতে সব পরীক্ষা দিতে পারে, সেই সুযোগ দেওয়া হোক।

স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন দুর্নীতির কারণে তার পদ হারান। তার গাফিলতির কারণেই এই ছাত্রের দুরবস্থা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দেখা যায়, তার কক্ষে তালা ঝুলছে। একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

একই চিত্র দেখা যায় অফিস সহকারী আলী আমজাদের ক্ষেত্রেও। তিনি অফিসে নেই, তার ফোনও বন্ধ। কেন তিনি আসেননি, তা কেউ বলতে পারেননি।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র সরকার বলেন, রায়হানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিদ্যালয়ের নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী পরিচালনা করেন, আর অন্যান্য শিক্ষকরা পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, ছাত্রের মায়ের অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরটিভি/টিআর