বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০২:৩৪ পিএম
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় প্রধান আসামি মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। বুধবার (৬ মে) ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সাগর মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
র্যাব-১৪ জানায়, সাগর অত্যন্ত চতুরতার সাথে আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন। গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াটি ছিল, গ্রেপ্তার এড়াতে সাগর কোনো ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না, ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। র্যাব-১৪ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
অভিযুক্ত সাগর প্রথমে গাজীপুর, এরপর টঙ্গী এবং সর্বশেষ ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় আত্মগোপন করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট সংক্রান্ত গুজবের বিষয়ে র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, আসামি গ্রেপ্তারের আগে ডিএনএ পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই। তদন্তের প্রয়োজনে এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন।
এছাড়া, শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা ডা. সায়মা আক্তারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি র্যাবের সাইবার টিম পর্যবেক্ষণ করছে। নেত্রকোণা জেলা পুলিশের মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী গত বছরের ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর সাগর তাকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার মা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায় যে, সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শিশুটির বাবা নিরুদ্দেশ এবং মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সে তার নানির কাছে থেকে পড়াশোনা করত।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নেত্রকোণার মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছিলেন। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
আরটিভি/এসকে