বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০৩:০৪ পিএম
প্রায় চার দশক আগে নিখোঁজ হওয়া এক নারীর ফিরে আসায় আবেগে ভাসছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের শাহাপাড়া গ্রাম। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ভারতের পাঞ্জাব থেকে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিজের জন্মভিটায় ফিরেছেন মোছা. জাহানারা। এক সময় যাকে হারিয়ে মৃত ভেবে নিয়েছিল পরিবার, সেই জাহানারাকে ফিরে পেয়ে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক আবেগঘন পরিবেশ।
গত ২৭ এপ্রিল সকালে গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জাহানারা। বাড়ির উঠানে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তিনি একে একে ভাই-বোন ও স্বজনদের জড়িয়ে ধরেন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের যন্ত্রণা মুহূর্তেই অশ্রুধারায় পরিণত হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাহানারা মৃত তমিজ উদ্দিনের মেয়ে। ছোটবেলায় তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবার তাকে মৃত ধরে নেয়। পরবর্তীতে জানা যায়, পাশের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি ভারতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি হন।
জাহানারার ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে কৌশলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা অনেক খুঁজেছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি। আজ বোনকে ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে আল্লাহ তাকে আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
আরেক ভাই বলেন, এত বছর পরও তাকে চিনতে কোনো ভুল হয়নি। মনে হচ্ছে সময় যেন থমকে গিয়েছিল।
ভাতিজি সুমাইয়া আক্তার বলেন, ছোটবেলা থেকেই ফুপুর গল্প শুনেছি। আজ তাকে সামনে পেয়ে মনে হয়েছে পরিবারের হারানো অংশ ফিরে এসেছে।
প্রতিবেশী আবদুল করিম বলেন, এমন ঘটনা খুবই বিরল। পুরো গ্রাম আজ আনন্দে ভাসলেও একই সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদের কষ্টও অনুভূত হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভারতে গিয়ে জাহানারা নতুন নাম গ্রহণ করেন এবং পাঞ্জাবের তাংতারা এলাকায় বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি চার সন্তানের জননী।
আবেগাপ্লুত জাহানারা বলেন, আমি কখনো ভাবিনি আবার এই বাড়িতে ফিরতে পারব। আমার শৈশব, আমার পরিবার সব যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
তার ছেলে মানজিদার সিং বলেন, মায়ের মুখে সবসময় গ্রামের গল্প শুনেছি। আজ এখানে এসে আমি গভীরভাবে আবেগপ্রবণ।
তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই পুনর্মিলন স্থায়ী হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, সেদিনই বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন এবং সেখান থেকে আবার ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিদায়ের মুহূর্তে আবারও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শাহাপাড়ার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, এমন দৃশ্য জীবনে খুব কমই দেখা যায় একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে বিদায়ের বেদনা।
আরটিভি/এসকে