images

দেশজুড়ে

লোকালয় থেকে বিপন্ন লজ্জাবতী বানর উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০৪:৪০ পিএম

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় আহত অবস্থায় একটি লজ্জাবতী বানরকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের শান্তিপুর এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যে এই প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয় 

মাটিরাঙ্গা বন বিভাগের বনপ্রহরী মো. হাসান বলেন, শান্তিপুর এলাকায় আহত অবস্থায় লজ্জাবতী বানরটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বন বিভাগ বানরটিকে উদ্ধার করে। বানরটির চোখে ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত বানরটিকে বুধবার (৬ মে) সকালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের কার্যালয়ে লজ্জাবতী বানরটি রাখার মতো প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই। তাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সেটি পিটাছড়া এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে আবারও চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হবে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

নোয়াখালীতে মসজিদের দানবাক্সের টাকা লুট

খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, বানরটির চিকিৎসা চলছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এটিকে সুস্থ করে তুলতে। সুস্থ হলে উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় রয়েছে লজ্জাবতী বানর। এটিকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিশাচর এই প্রাণী সাধারণত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বনাঞ্চলে দেখা যায়।

এদিকে বন্যপ্রাণীর প্রতি স্থানীয়দের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, লজ্জাবতী বানর ‘বাংলা লজ্জাবতী বানর’ (Bengal Slow Loris) নামেও পরিচিত। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা বনবিটসহ সিলেট ও চট্টগ্রামের ঘন গহীন বনে মূলত এদের বাস।

নিশাচর এই প্রাণীটি গাছের উঁচু ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে এবং খুব ধীরে চলাচল করে। বানরের অন্যান্য প্রজাতির মতো এরা যত্রতত্র ঘোরাঘুরি না করে সব সময় নিজেকে আড়াল রাখতে পছন্দ করে। মূলত গাছের কচিপাতা, আঠা, ফলমূল, ছোট পোকামাকড় ও পাখির ডিম খেয়ে থাকে। মজার বিষয় হলো, খাওয়ার সময় এরা হাত ব্যবহার না করে সরাসরি মুখ দিয়ে খাবার গ্রহণ করে। বছরে একবার মাত্র একটি বাচ্চা জন্ম দেয় এই প্রাণীটি।

তিনি আরও বলেন, দেশের বনাঞ্চলে ঠিক কতটি লজ্জাবতী বানর রয়েছে, তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে বন উজাড় এবং খাদ্য ও আবাসস্থলের সংকটের কারণে সুন্দর এই প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে ‘সংকটাপন্ন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বন্যপ্রাণী আইন-১৯৭৪ ও বন্যপ্রাণী আইন-২০১২-এর তফসিল-১ অনুযায়ী এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটিকে হত্যা, শিকার করা বা কোনো ধরনের ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরটিভি/এসএস