বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০৮:৫০ পিএম
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৫ বছরের মেয়েশিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ বাবা মতি বেপারীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (৬ মে) প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানাধীন দেওহাটা গরুর হাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা ও পুলিশের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মতি বেপারী ৫ বছর আগে নাছিমা বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাছিমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং পরবর্তীতে ওই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। গত ১ মে দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় মতি বেপারী তার স্ত্রী নাছিমাকে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে ফেলেন। এরপর রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি তার ৫ বছর বয়সী সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করেন। ভোররাতে শিশুটির কান্নাকাটিতে মায়ের ঘুম ভাঙলে দেখা যায় শিশুটি গুরুতর অসুস্থ। পরে শিশুটি তার মায়ের কাছে সৎ বাবার এই কর্মকাণ্ডের কথা জানায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা ( ডিবি) পুলিশের ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালোর তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। অভিযুক্ত মতি বেপারী তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর এসআই সুরেশ রাজবংশী, এসআই রনি দেবনাথ ও এসআই মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল 'গরু ক্রেতা ও বেপারী' সেজে টানা ৭ ঘণ্টা টাঙ্গাইলের দেওহাটা হাটে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত ছদ্মবেশে থাকা ডিবির জালে ধরা পড়ে এই অপরাধী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) এবং ডিবি পুলিশের ইনচার্জ নিশ্চিত করেছেন যে, শিশুটির মা বাদী হয়ে আগেই মামলা করেছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
আরটিভি/এমএইচজে