বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ , ১২:২৪ পিএম
রাঙ্গামাটির লংগদু সরকারি মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ওসমান গণির বিরুদ্ধে তার নিজের মেয়ে ডা. জান্নাতকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
২০ লাখ টাকা দাবি এবং স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসক।
গত ২ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে লংগদুতে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত ডা. জান্নাত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী ডা. জান্নাত জানান, ঘটনার দিন তার বাবা ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাবা ওসমান গণি জোরপূর্বক তার স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আলমারি ভাঙতে চান। এতে বাধা দিলে হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তার মাথা ও কপাল ফেটে যায়। পরবর্তীতে তার মা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এই ঘটনায় তার মাথায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ডা. জান্নাত আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা এবং মা (একই কলেজের প্রভাষক রোকেয়া বেগম) তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। তাকে সমাজে ‘মানসিক রোগী’ হিসেবে প্রচার করা, কর্মস্থলে বাধা দেওয়া এবং এমনকি বিষাক্ত ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আমি নিয়মিত চেম্বার করছি এবং রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি; আমি মানসিক রোগী হলে সেটা কীভাবে সম্ভব?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ওসমান গণি মারধরের বিষয়টি পারিবারিক বলে এড়িয়ে যান। তবে মেয়ের সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ জানে। তবে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন চিকিৎসকের ওপর নিজ বাবার এমন 'নৃশংস' হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী ডা. জান্নাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এমএইচজে