বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ , ০৬:২২ পিএম
অনুকূল আবহাওয়া এবং নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের পানি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নতুন কোনো কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, যা কৃষকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তবে বেশিরভাগ ধানি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকদের হাহাকার থামছে না।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের দেখা মিলেছে। এতে পানির নিচ থেকে তোলা ধান কাটা ও শুকাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকায় কেটে আনা ধানগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে; এমনকি অনেক ধানে চারাও গজিয়ে গেছে।
সম্প্রতি ভারী বর্ষণে হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তত ৩০৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। যদিও কৃষকদের দাবি, ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও অনেক বেশি। কষ্টে ফলানো সোনালী ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। ফসল বাঁচাতে কৃষকরা হাওরের দিকে ছুটছেন। কোথাও বুক সমান, আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে তাদের। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।
কৃষকরা জানান, হাওরের পানি কিছুটা কমায় যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন, সেখান থেকেই ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় ধানগুলো গুণমান হারিয়ে নষ্ট হওয়ার পথে। এমনকি যেসব ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেগুলো শুকাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, অধিকাংশ কৃষকই ধার-দেনা ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, নাসিরনগরের হাওরে চলতি বোরো মৌসুমে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। আগাম পানি আসার আগেই ৭০ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছিল। তবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে প্রায় ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে নতুন করে আরও ২০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে