বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ , ০৭:১০ পিএম
কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন নিহত ফারিহার বাবা।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের হলেও নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতের মা কোহিনূর বেগমের অভিযোগ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফারিহা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। বিয়ের মাত্র আট মাস পার হলেও এই অল্প সময়েই যৌতুকের জন্য তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলত। বিয়ের পর নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ফারিহা কয়েকটি টিউশনি করতেন, কিন্তু সেই টাকা থেকেও ভাগ বসাতেন তার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয় ও শাশুড়ি আফরোজা বেগম। এছাড়া ফারিহার স্বামী মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রবাসী এক নারীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন বলে দাবি করেন শোকাতুর মা।
ফারিহার ছোট ভাই জোবায়ের হোসেন ফাহিম এবং বাবা স্কুল শিক্ষক মো. হানিফ জানান, মরদেহের হাঁটুর নিচে ও দুই হাতে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ফারিহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ বিছানায় সাজিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে লাশের অবস্থান ও ঘরের আসবাবপত্রের বিন্যাস দেখেও একে স্বাভাবিক আত্মহত্যা মানতে নারাজ তারা। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত ফারিহার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোঃ তারিকুল ইসলাম চৌধুরী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছেরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় দৌলখাঁর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদারও ফারিহার নম্র-ভদ্র স্বভাবের কথা স্মরণ করে এই মৃত্যুর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শরীফ ইবনে আলম জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়, তবে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করে চার্জশিট দেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয় পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আরটিভি/এমএইচজে