images

দেশজুড়ে

এবার দিনাজপুরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের মেয়ে

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ০৫:২৪ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি আড়াল করতে অভিযুক্ত ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে শিশুটি চায় এর উপযুক্ত বিচার।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এ ঘটনায় উপযুক্ত বিচার চান। পাশাপাশি ওই শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে নানির জন্য দোকানে পান আনতে গিয়েছিল শিশুটি। পথে একই এলাকার নূর ইসলাম তাকে মুখ চেপে ধরে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি আড়াল করতে দেওয়া হয় হত্যার হুমকি। এরপর আরও কয়েকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই ব্যক্তি।

এক মাস আগে শিশুটিকে অস্বাভাবিক দেখেন তার মামি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনা খুলে বলে সে। বিষয়টি জানাজানি হলে সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয়দের মাধ্যমে মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই শিশুর দেওয়া হয় কথিত বিয়ে। একটি খাতাতে ওই শিশুটির সই নিয়ে বলা হয় বিয়ে হয়ে গেছে। বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা মোহর এবং দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় অভিযুক্ত ধর্ষক নূর।

মেয়েটির মামি বলেন, মেয়েটিকে দেখে আমার কিছুটা অস্বাভাবিক লাগে। এরপর আমি একদিন বুঝতে পারি, সে অন্তঃসত্ত্বা। পরে জানাজানি হলে এলাকার সবাই মিলে এ বিষয়টি সমাধান করে। সে সময় আমি সেখানে ছিলাম না। আমাদের কাউকে জানানো হয়নি।

মেয়েটির মা বলেন, এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গ্রামের সবাই মিলে দুই জনের বিয়ে দেয়।

মেয়েটির বাবা বলেন, হঠাৎ করেই আমি জানতে পারি, আমার মেয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার মেয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটি বলে, আমি এ ঘটনার বিচার চাই। মীমাংসার নামে আমাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত নূর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তালা দেওয়া দেখতে পাওয়া যায়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালেই বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সে পালিয়ে গেছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেন ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস। পরে তিনি জানান, ১২ বছরের শিশুকে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে লোকলজ্জার ভয়ে এবং মেয়েকে দেড় লাখ টাকা ও ২ শতক জমি লিখে দেওয়ার কথা বলে কাজি ডেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা না রাখায় বিষয়টি জানাজানি হয়। পরিবারের সদস্যরা আমাদের সব ঘটনা বলেছেন। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।

আপস-মীমাংসার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা হবে, মামলার পর তদন্ত সাপেক্ষে যার যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবো।

আরটিভি/টিআর