শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ০৮:০৬ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের বদলির আদেশ জারির এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও কর্মস্থল ছাড়েননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
৭ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সরকারি কমিশনার উম্মে সালিক রোমাইয়ার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বদলি করা হয়। একই আদেশে বিশ্বনাথ উপজেলার ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবিকে মাধবপুরে পদায়ন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বদলির কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে “বদলি বাণিজ্য” চলছে। তাঁদের দাবি, অনেক সময় বদলির আদেশ জারি হলেও পরে তা স্থগিত হয়ে যায়, যার পেছনে ঘুষ বা প্রভাবের বিষয় থাকতে পারে। তাঁরা বিষয়টি সরকারিভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহিদ বিন কাসেম যোগদানের সময়ও বিভাগীয় কমিশনারের পূর্বের আদেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য এক কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে মাধবপুরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় একটি মহল। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের জবাব না দেওয়া, আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা পুনঃস্থাপন বন্ধ রাখা, সরকারি খাসপুকুর ইজারায় অনিয়ম এবং কমিটি গঠন ছাড়াই পিআইও অফিসের অর্থ ছাড়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, উনার বদলি হোক বা এখানে থাকুক, সেটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু জনস্বার্থ, মানবাধিকার ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আমি একাধিক অভিযোগ দিয়েছি। তিনি এসব বিষয়ে তৎপর নন। একাধিকবার তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও তথ্য না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন লোকজন দিয়ে ফোন করানো হয়েছে। আমরা চাই, তিনি এসব সমস্যার সমাধান করে মাধবপুরে স্বচ্ছতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনুন।
এ বিষয়ে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন, আপনার প্রশ্ন থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য অধিকার আইনে জানতে চাইবেন।
তবে বদলি ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি এবং গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আর তথ্য অধিকার আইনে কেউ তথ্য চাইলে অবশ্যই তা দিতে হবে।
আরটিভি/টিআর