images

দেশজুড়ে

মাদরাসার একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি শিক্ষকের, ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা!

রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ১১:০৪ এএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বায়তুল করিম নূরানী মাদরাসার এক নুরানী শিক্ষার্থীসহ একাধিক প্রাইভেট শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গত বৃহস্পতিবার এলাকায় এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবার বৈঠকে পুরো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা বা সমাধানের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তবে একাধিক শিশুকে হয়রানির তথ্য সামনে আসায় সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ ওই মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা এমদাদ উল্লাহ বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানার পরপরই আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি। শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কোনো আপোশ করব না।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

রংপুরে ইয়াবাসহ মা-ছেলে গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা আকতার জানান, ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মাওলানা মোহাম্মদ মারুফ প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আরও অনেক অভিভাবক মুখ খুলতে শুরু করেন এবং জানা যায়, মাওলানা মারুফ আরও একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই কাজ করেছেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী পরিবার বা অন্য কেউ অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন- যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।


আরটিভি/এমএইচজে